১ মাসে চুল লম্বা করার উপায়

১ মাসে চুল লম্বা করার উপায়

Hair Care

লম্বা চুলের স্বপ্ন দেখেন না এমন বাঙালি নারী কিন্তু পাওয়া যায় না। কোমর অব্দি লম্বা, ঘন, কালো ও কোমল চুলের প্রতি সব নারীরই দুর্নিবার আকর্ষণ রয়েছে। তবে জন্মগতভাবেই কারো কারো চুল হয় পাতলা আবার কারো চুল হয় ঘন। এছাড়া আবহাওয়ার কারণেও অনেক সময় চুল পড়ে পাতলা হয়ে যেতে পারে। 


তবে সঠিকভাবে চুলের যত্ন নিলে আপনিও কিন্তু পেতে পারেন ঘন, কালো ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল। মাত্র ১ মাসেই কতো সহজে আপনি চুল লম্বা করতে পারেন, টা নিয়েই আমাদের আজকের আর্টিকেল। 

চুল লম্বা করার উপায় সমূহ

সাধারণত চুল লম্বা হয় না যেসব কারণে তার মধ্যে অন্যতম হলো আবহাওয়াজনিত সমস্যা, বয়স, অতিরিক্ত স্ট্রেস, অনিদ্রা, পুষ্টিহীনতা, অতিরিক্ত কেমিকেলের ব্যবহার ইত্যাদি। তবে আজকের আর্টিকেলে আমরা এমন কিছু টিপস শেয়ার করবো যা নিয়মিত ফলো করলে ১ মাসেই আপনার চুল হয়ে উঠবে লম্বা ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল। চলুন জেনে নিই কীভাবে ১ মাসেই চুল লম্বা করা যায়। 

চুলের আগা ছেঁটে দিন

ভাবছেন চুলের আগা ছেঁটে দিলে তো চুল ছোটো হয়ে গেলো, তাহলে এটা বাড়বে কীভাবে? কিন্তু আপনি যদি চুল দ্রুত লম্বা করতে চান তবে নিয়মিত চুলের আগা ছেঁটে ফেলতে হবে। প্রতি ছয় থেকে আট সপ্তাহ পর পর চুলের আগা ছেঁটে দিলে বা ট্রিম করলে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকে, স্প্লিট এন্ড বাদ যায় ফলে চুল দ্রুত বাড়ে। ভঙ্গুর ও ক্ষতিগ্রস্ত চুলের ডগা চুলের বৃদ্ধি রোধ করে। 


তাই চুলের আগা নিয়মিত ছেঁটে দিন। এ জন্য বাড়িতে কাচি দিয়ে নিজেও ছেঁটে নিতে পারেন বা পার্লারে গিয়ে ট্রিম করে আসতে পারেন। 

কন্ডিশনার ব্যবহার করুন

চুলের যত্নে কন্ডিশনার একটা মাস্ট হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্ট। অযত্নে অবহেলায় আমাদের চুলের আগার দিক পাতলা হয়েই মূলত চুলের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। কারণ চুলের গোড়ায় যত পুষ্টি পৌঁছায়, আগায় সেভাবে পুষ্টি পৌঁছায় না। তাই শ্যাম্পুর পরেই চুলে ভালোভাবে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। 


চুলের ধরন অনুযায়ী যে ধরনের কন্ডিশনার আপনার চুলে লাগবে, সেই ধরনের কন্ডিশনার নির্বাচন করুন। শ্যাম্পু করার পর ৩-৫ মিনিট কন্ডিশনার লাগিয়ে অপেক্ষা করে চুল ধুয়ে ফেলুন। এতে করে চুল সিল্কি হয় এবং চুলে আলাদা একটি সুরক্ষার লেয়ার থাকায় চুল দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

গরম তেল মালিশ করুন

চুলের বৃদ্ধিতে গরম তেল মালিশের বিকল্প নেই। কুসুম গরম তেল নিয়মিত চুলে ও মাথার ত্বকে মাসাজ করলে স্কাল্পে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়। আর মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন ঠিক থাকলে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ হয় যা চুলকে গোড়া থেকেমজবুত রাখে ফলে চুল দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এছাড়া নিয়মিত তেল মালিশ করলে চুল প্রয়োজনীয় পুষ্টিও পায়। 


সপ্তাহে অন্তত ২ থেকে তিন দিন তাই কুসুম গরম তেল মাথার চুল ও ত্বকে মালিশ করুন। পরিমাণমত নারিকেল তেলের সাথে ক্যাস্টর অয়েল, অলিভ অয়েল, ভিটামিন ই সহ নানাকিছু যোগ করে হাতের আঙুলের ডগার সাহায্যে হালকা করে মাসাজ করুন। কখনোই জোড়ে জড়ে হাতের তালু দিয়ে ঘষবেন না, এতে করে চুলের গোড়া নরম হয়তে হেয়ার ফল শুরু হতে পারে।

ব্যবহার করুন সঠিক শ্যাম্পু

চুলের বৃদ্ধিতে চুল এবং মাথার স্কাল্প পরিষ্কার রাখার গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু যেন তেন শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চুলের ক্ষতিসাধন হয় বেশি। তাই শ্যাম্পু নির্বাচন করার ক্ষেত্রে সচেতন হোন। এমন শ্যাম্পু নির্বাচন করুন যা আপনার চুলের জন্য পার্ফেক্ট। মাথার ত্বকের ধরন অনুযায়ী তৈলাক্ত বা শুষ্ক চুলের জন্য সেই ধরনের উপযোগী শ্যাম্পু নির্বাচন করুন। 


শ্যাম্পু মাথার ত্বককে ধুলোবালি থেকে সুরক্ষা দেয়। নিয়মিত সঠিক শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার করলে চুলের স্বাস্থ্য ভালো থাকে ও বৃদ্ধি পায়। 

ঘরোয়া হেয়ার প্যাক ব্যবহার করুন

চুলের যত্নে ঘরে বসেই প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ঘরোয়া হেয়ার প্যাক বানিয়ে ডিপ কন্ডিশনিং করে নিতে পারেন। হেনা, টক দই, ডিম একসাথে মিক্স করে হেয়ার প্যাক বানিয়ে সপ্তাহে ব্যবহার করলে উপকার পেতে পারেন। এছাড়া এলোভেরা জেল ও অলিভ অয়েল একসাথে মিশিয়েও হেয়ার প্যাক বানিয়ে ব্যবহার করা যায়। 


যে কোন হেয়ার প্যাক মাথায় দিয়ে এক ঘণ্টা পর খুব ভালো করে শ্যাম্পু এবং ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। গরম পানি দিয়ে চুল ধুলে স্কাল্প রুক্ষ হয়ে যায় এবং চুলের বৃদ্ধিও কমে যায়।  

অতিরিক্ত হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার না করা

লম্বা ও ঘন চুল পেতে হলেই যে অতিরিক্ত হেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে হবে এমন না। বরং নিয়মিত চুলের যত্ন নিলেই জুল বৃদ্ধি পায়। প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে নিয়মিত চুলের যত্ন নেয়া সম্ভব। তাই কেমিক্যাল জাতীয় পণ্য যত কম পারা যায় ব্যবহার করা উচিত। এবং অতিরিক্ত পণ্য ব্যবহার না করে একটি সঠিক হেয়ার কেয়ার রুটিন ফলো করা উচিত।  


প্রথমে নিজের মাথার ত্বকের ধরন ও চুলের ধরন যাচাই করুন। তারপর সে অনুযায়ী হেয়ার কেয়ার রুটিন ফলো করুন। অতিরিক্ত কেমিকেল জাতীয় পণ্য চুলের বৃদ্ধি বন্ধ করে দেয়। 


চুলের বৃদ্ধি নির্ভর করে আপনি কতোটা স্ট্রেস ফ্রি জীবন যাপন করছেন এবং কতোটা চুলের যত্ন নিতে পারছেন। ১ মাসেই আপনি লম্বা চুল পেতে পারেন যদি নিয়মিত চুল ও মাথার ত্বক পরিষ্কার করেন, নিয়মিত হেয়ার কেয়ার রুটিন ফলো করেন এবং সুস্থ জীবন যাপন করেন।