তৈলাক্ত ত্বকের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ব্রণ। যতই ত্বক পরিস্কার করুন না কেন, কিছুক্ষণ পরেই আবার ত্বক ভর্তি করে সেবাম জন্ম নেয় আর কিছু দিন পরপরই ত্বকের এদিক সেদিক থেকে ব্রণ উঁকি দিতে থাকে।
এ ধরনের ত্বকে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে নেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার ত্বকে তেল জমে যায়, ফলে মেকআপও বেশিক্ষণ টেকে না। তৈলাক্ত ত্বকের এই কমন সমস্যায় জর্জরিত যারা, আমাদের আজকের আর্টিকেল তাদের জন্য।
আজকে আমরা জানবো তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ৫টি সেরা ফেসওয়াশ সম্পর্কে। সেই সাথে কেন তৈলাক্ত ত্বকে ফেসওয়াশ প্রয়োজন, কীভাবে তা এপ্লাই করবেন বা কতক্ষণ পর পর এপ্লাই করবেন, সেসব সম্পর্কেও বিশদ জানবো।
তৈলাক্ত ত্বকে অতিরিক্ত তেল জমে থাকার কারণে বাইরে বের হলে ধুলা-বালি সহজে আটকে ধরে। ফলে দেখা দেয় ব্রণ, পিম্পল। সেখান থেকে তৈরি হয় কালো দাগ। আবার ব্রণের দাগ দুর করা কিন্তু বেশ কঠিন।
তাই আপনি যদি সঠিক নিয়মে সঠিক ফেসওয়াশ দিয়ে আপনার ত্বক ভালোভাবে পরিস্কার করেন তাহলে সহজেই ত্বকের অয়েলিনেস কন্ট্রোল করা সম্ভব। অয়েলি ত্বকের জন্য বাজারে দারুণ দারুণ অয়েল কন্ট্রোল ফেসওয়াশ পাওয়া যায়। নিয়মিত ত্বক পরিস্কারে অয়েলি ত্বকের অয়েল কন্ট্রোল হওয়ার পাশাপাশি ত্বকে এনে দেয় বাড়তি উজ্জ্বলতা। তাই তৈলাক্ত ত্বকের অয়েল কন্ট্রোল করতে একটা ভালো ফেসওয়াশের বিকল্প নেই।
চলুন জেনে নিই তৈলাক্ত ত্বকের যত্নে সেরা ৫টি ফেসওয়াশের কার্যকারিতা কি।
কজারেক্স স্যালিসাইলিক এসিড ডেইলি জেন্টল ক্লিনজার তৈলাক্ত ত্বকের জন্য একটা ওয়াও টাইপ ফেসওয়াশ। এটি ত্বকের রোমকূপের গোড়ায় পৌঁছে ত্বকের অয়েল ব্যালেন্স করতে সাহায্য করে। চলুন জেনে নিই ফেসওয়াশটি ব্যবহারে আপনি কী কী উপকারিতা পাবেন।
উপাদান: স্যালিসাইলিক এসিড, টি ট্রি ওয়েল
উপকারিতা:
১। এই ফেসওয়াশে রয়েছে স্যালিসাইলিক এসিড যা ত্বকের মৃত কোষ দুর করে এবং ত্বকে ব্রেকআউট হতে দেয় না। ফলে ত্বক হারিয়ে যাওয়া উজ্জ্বলতা ফিরে পায়।
২। এতে রয়েছে টি ট্রি অয়েল এসেন্স যা ত্বকের ব্লেমিশ দুর করে এবং ত্বককে হাইড্রেট করে।
৩। এই ফেসওয়াশে রয়েছে মাইক্রো ক্রিমি সোপ সিস্টেম, ফলে আপনি যখন ত্বকে মাসাজ করবেন, এটা ত্বকের একদম গভীরে গিয়ে ক্লিঞ্জ করবে।
৪। নিয়মিত এই ফেসওয়াশ ব্যবহারে ত্বক থেকে অরিতিক্ত সেবাম দুর হয় কিন্তু ত্বকে অতিরিক্ত শুষ্কভাব অনুভূত হয় না।
৫। সর্বোপরি তৈলাক্ত ত্বকেও এটি একটি ফ্রেশনেস এনে দেয় যা দীর্ঘক্ষণ আপনার ত্বককে সজীব ও প্রাণবন্ত রাখে।
৬। স্যালিসাইলিক এসিড মৃদুভাবে এক্সফলিয়েট করে বিধায় ত্বকে কোনো ব্ল্যাকহেডস বা হোয়াইটহেডস দেখা দেয় না।
ব্যবহারবিধি-
১। সামান্য পরিমাণ ফেসওয়াশ হাতে নিয়ে অল্প পরিমাণ পানি মিশান।
২। পানি আর ফেসওয়াশ একসাথে মিক্স করে ফোম তৈরি করুন।
৩। চোখের চারপাশ বাদ দিয়ে ভালো করে মুখ, গলা, ঘাড় মাসাজ করুন।
৪। কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
বর্তমান সময়ের খুব জনপ্রিয় একটি ব্র্যান্ড দ্য বডিশপ। এই ব্র্যান্ডের দ্য বডিশপ টি ট্রি স্কিন ক্লিয়ারিং ফেসিয়াল ওয়াশ তৈলাক্ত ত্বকের জন্য খুবই জনপ্রিয় একটি ফেসওয়াশ। চলুন জেনে নিই এই ফেসওয়াশের উপকারিতা।
উপাদান- টি ট্রি অয়েল
উপকারিতা-
১। এই ফেসওয়াশটি তৈলাক্ত ত্বক, সেনসিটিভ বা কম্বিনেশন ত্বকের জন্য সমানভাবে কাজ করে।
২। পরিমাণে এত বেশি থাকে যে একবার কিনলেই অনেক লম্বা সময় চলে যায়।
৩। এটি ত্বকের অয়েল ব্যালেন্স করার পাশাপাশি ব্রণের সমস্যা দুর করে।
৪। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব কমিয়ে আনলেও ত্বককে শুষ করে তোলে না ফলে ব্রেকআউট দেখা দেয়না।
৫। মেন্থল বেইজড হওয়ার কারণে এটা দিয়ে খুব সুন্দর এরোমা বের হয় যা সারাদিন আপনাকে একটা সতেজ অনুভূতি দেয়।
অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বকের জন্য নিউট্রোজিনা অয়েল ফ্রি একনে ওয়াশ একটি আশীর্বাদ। তৈলাক্ত ত্বকে সেবামের কারণে ব্রণ পিছু ছাড়তেই চায় না। সেক্ষেত্রে এই ফেসওয়াশটি নিয়মিত ব্যবহারে ব্রণের সমস্যা পুরোটাই নিরাময় হয়।
উপাদান: স্যালিসাইলিক এসিড
উপকারিতা:
- জেল টাইপের এই ফেসওয়াশটি পুরোপুরি তৈরি করা হয়েছে বিশেষত তৈলাক্ত ত্বকের জন্য। এতে যে স্যালিসাইলিক এসিড রয়েছে তা ত্বকের একনে দুর করতে সহায়তা করে পাশাপাশি ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য বজায় রাখে।
- এই ফেসওয়াশটি ডার্মাটোলজিস্ট টেস্টেড। এটি পোরসের গভীরে পৌঁছে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে এবং পোরসের ক্লগিং বন্ধ করে। ফলে সহজে ত্বকে আর ব্রণের প্রভাব দেখা দেয় না।
- এর মাইক্রো ক্লিয়ার টেকনোলজি ত্বকের গভীরে স্যালিসাইলিক এসিড পৌঁছাতে সাহায্য করে।
- এর অয়েল-ফ্রি ফর্মুলা ত্বকে ওপেন পোরসের সমস্যা সমাধান করে এবং ত্বককে শুষ্কও করে তোলে না। ফলে ত্বকে অয়েল ব্যালেন্স স্বাভাবিক থাকে এবং ব্রণ ওঠার সম্ভাবনা নিরাময় হয়।
অয়েলি ত্বকের জন্য বাজেট ফ্রেন্ডলি ফেসওয়াশের মধ্যে ক্লিন এন্ড ক্লিয়ার ফোমিং ফেসওয়াশ একটা চমৎকার প্রোডাক্ট। এই ফেসওয়াশটি ডিজাইন করা হয়েছে শুধুমাত্র তৈলাক্ত ত্বকের জন্য। এটা এতোই মৃদু যে প্রতিদিনের ব্যবহারে ত্বকে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না।
উপকারিতা-
১। ত্বকের অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব দুর করে সেই সাথে ত্বক থেকে পিম্পল ওঠা বন্ধ করে।
২। এই ফেসওয়াশের লিকুইড ফর্মুলা ত্বককে অতিরিক্ত শুষ্ক হতে দেয় না।
৩। ছেলে এবং মেয়ে উভয়েই ব্যবহার করতে পারবে।
৪। এটি তৈলাক্ত ত্বকে প্রতিদিনে ব্যবহার করলে ত্বক পুরনো উজ্জ্বলতা ফিরে পায়।
ব্যবহারবিধি-
১। পরিমাণমত ফেসওয়াশ হাতে নিয়ে ফোম তৈরি করুন।
২। চোখের চারপাশের এরিয়া বাদ দিয়ে সারামুখে ও গলায় আলতোভাবে মাসাজ করুন।
৩। প্রচুর পরিমাণ পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
৪। ভালো রেজাল্ট পেতে প্রতিদিন দুইবার ব্যবহার করুন।
ক্যাটাফিল অয়েলি স্কিন ক্লিনজার আরেকটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ড। যারা একটু জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে চান তারা এই ক্লিনজারটি ভীষণ পছন্দ করেন। চলুন জেনে নিই এর উপকারিতা বা বেনেফিটস কী কী।
উপকারিতা-
১। এতে কৃত্রিম কোনো সুগন্ধি ব্যবহার করা হয় না।
২। এটি লিকুইড ফর্মে আসে। তৈলাক্ত ত্বকে অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব এইফ এসওয়াশে সহজেই দুর হয়।
৩। এটি ডার্মাটলজিস্ট টেস্টেড এবং সোডিয়াম লরেট সালফেট ফ্রি
৪। এই ফেসওয়াশের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো এটি ত্বকের তৈলাক্তটা দুর করে, অয়েল ব্যালেন্স করে এবং সেই সাথে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে।
৫। ত্বকের পিএইচ লেভেল ধরে রাখে।
৬। নারী ও পুরুষ উভয়েই ব্যবহার করতে পারবে।
ত্বকে অতিরিক্ত তেল জমে যাওয়ার কারণে ত্বকে চিটচিটে ভাব কেউই পছন্দ করেন না। ফলে অনেকেই দেখা যায় ঘন ঘন মুখ ফেসওয়াশ দিয়ে ধুয়ে ফেলেন। কিন্তু জানেন কি, অয়েলি ফেইস ঘনঘন ফেসওয়াশ দিয়ে ধুলে কখনোই তৈলাক্ত ভাব যায় না? বরং উল্টো আপনার ত্বকের যে ন্যাচালার ময়েশ্চার আছে সেটাও নষ্ট হয়। ফলে আরো বেশি তেল উৎপন্ন হয়।
ন্যাচারাল ময়েশ্চার লেভেল নষ্ট হলেই আপনার ত্বক ভিতর থেকে ড্রাই হতে থাকে। ফলে প্রাকৃতিকভাবেই আপনার ত্বক অতিরিক্ত সেবাম উৎপাদন শুরু করে যা কি না ত্বকের তেল চিটচিটে ভাব বাড়িয়ে দেয় এবং সেখান থেকে তৈরি হয় ব্রণ।
তাই প্রতিদিন দুই বারের বেশি তৈলাক্ত ত্বকে ফেওসওয়াশ দেয়া উচিত নয়। আপনি সকালে এবং রাতে দুইবার সঠিক নিয়মে ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। এবং ফেসওয়াশ নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই অয়েলি স্কিনের জন্য তৈরি এমন ফেসওয়াশ ব্যবহার করবেন। তাহলে ত্বকের অয়েল ব্যালেন্স বজায় থাকবে এবং অতিরিক্ত চিটচিটে অনুভূত হবে না।
তৈলাক্ত ত্বকের সঠিক যত্ন নিতে পারলে তৈলাক্ত ত্বকেও লম্বা সময় মেকআপ বসে থাকে। তবে এ ক্ষেত্রে স্কিনকেয়ারের ব্যাপারে আপনাকে সতর্ক হতে হবে। সঠিকভাবে ত্বক পরিষ্কার রাখলে আপনার তৈলাক্ত ত্বকও দেখাবে উজ্জ্বল আর প্রাণবন্ত।