খসখসে বা শুষ্ক ত্বকের সমস্যা নিয়ে বিব্রত বোধ করছেন? খুব স্বাভাবিক! শুষ্ক ত্বকে ব্রেকআউট, ফাটল ধরা, বলিরেখা সর্বোপরি ত্বকে দ্রুত বয়সের ছাপ পড়ে যাওয়া কমন প্রব্লেম। প্রয়োজনীয় আর্দ্রতার অভাবে ও শুষ্ক ত্বকের খসখসে ভাবের কারণে মেকআপ করলেও ফেটে ফেটে যায় যা দেখতে বাজে দেখায়।
তাই শুষ্ক ত্বক পরিষ্কার করতে আপনার এমন ফেসওয়াশ বেছে নিতে হবে যা আপনার ত্বকে প্রয়োজনীয় ময়েশ্চার যোগাবে এবং ত্বকের শুষ্কতা দুর করবে। এই আর্টিকেলে আমরা জানবো শুষ্ক ত্বকের জন্য কোন ফেসওয়াশগুলো সবচেয়ে ভালো, এগুলোর উপযোগিতা কি এবং কীভাবে কাজ করে।
স্কিনকেয়ার রুটিনের প্রথম ধাপ হলো ক্লিনজিং। আপনার ত্বক তৈলাক্ত হোক, শুষ্ক বা সেনসিটিভ, ত্বক পরিস্কার করতে একটা ভালো ক্লিনজারের বিকল্প নেই। শুষ্ক ত্বকে পর্যাপ্ত ময়েশ্চারের অভাবে খসখসে ভাব দেখা দেয়। এছাড়া ত্বকে বয়সের ছাপ, বলিরেখা, ওপেন পোরস এসব সমস্যা তো লেগেই থাকে।
তাই শুষ্ক ত্বক পরিস্কারের জন্য এমন ফেসওয়াশ বেছে নিতে হবে যেটা ময়েশ্চারযুক্ত। অর্থাৎ মুখ ধোয়ার পরে মুখের খসখসে ভাব দুর করে কোমলতা এনে দেয় এমন ফেসওয়াশ বেছে নিতে হবে। নিয়মিত স্কিনকেয়ার রুটিন মেনে চললে শুষ্ক ত্বকও থাকে কোমল ও নরম।
চলুন জেনে নিই শুষ্ক ত্বকের জন্য সেরা ৫টি ফেসওয়াশ কোনগুলি।
সেরাভে হাইড্রেটিং ক্লিনজার ফর নরমাল টু ড্রাই স্কিন ফেসওয়াশটি শুষ্ক ত্বকের জন্য দারুণ উপযোগী একটা ফেসওয়াশ। আপনি যদি একটু দামি ব্র্যান্ডের মধ্যে ফেসওয়াশ খোঁজেন, তবে এই ফেসওয়াশটি হবে পার্ফেক্ট চয়েস।
উপাদান- হাইয়ালুরনিক এসিড, সিরামিড, গ্লিসারিন।
উপকারিতা-
১। শুষ্ক ত্বকে হাইড্রেশনের অভাবে খসখসে ভাব বেড়ে যায়। সেরাভের এই ফেসওয়াশে রয়েছে হাইয়ালুরনিক এসিড, সিরামিড এবং গ্লিসারিন যা একসাথে ত্বকের ময়েশ্চার লেভেলকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে হাইড্রেট করে।
২। এই ফেসওয়াশটি মেকআপ রিমুভার হিসেবে চমৎকার কাজ করে।
৩। সারাদিনই ত্বকে একটা নরম ও কোমল ভাব এনে দেয় কিন্তু চিটচিটে অনুভূত হয় না। অর্থাৎ ফেসওয়াশটি নন গ্রিজি।
৪। এই ফেসওয়াশটি ন্যাশনাল একজিমা এসোসিয়েশন থেকে সার্টিফায়েড।
৫। এটি প্যারাবেন ফ্রি, ফ্র্যাগরেন্স ফ্রি এবং নন কমেডোজেনিক।
৬। এটি ত্বকে লোশনের মত মিশে ময়েশ্চারাইজিং এর কাজ করে। সারাদিনেই আপনার ত্বকে কোনো খসখসেভাব অনুভূত হবে না।
৭। ডার্মাটোলোজিস্ট টেস্টেড, ত্বকে কোনো ধরনের জ্বালা পোড়া অনুভূত হয় না।
রাজকন্যা গ্লো বুস্টার ফেসিয়াল ওয়াশ উইথ জোজোবা বিডস ড্রাই স্কিনের জন্য একটি চমৎকার বাজেট-ফ্রেন্ডলি ফেসওয়াশ। এর প্রাকৃতিক উপাদান আপনার ত্বককে ভিতর থেকে ময়েশ্চারাইজ করে পাশাপাশি ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।
উপাদান: রাইস ওয়াটার, টেঞ্জারিন এক্সট্র্যাক্ট
উপকারিতা:
এই ফেসওয়াশে রয়েছে রাইস ওয়াটার এবং টেঞ্জারিন এক্সট্র্যাক্ট যা ত্বককে গ্লোয়িং করে তুলতে সাহায্য করে।
এটি ত্বকের দাগ দুর করে এবং ত্বকে ময়েশ্চার যুক্ত করে।
ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বুস্ট করে।
ত্বকে এন্টি এজিং এর কাজ করে এবং বলিরেখা থেকে বাঁচায়।
ব্যবহারবিধি-
১। হাতে সামান্য পরিমাণ ফেসওয়াশ নিয়ে ফোম তৈরি করুন।
২। সারা মুখে আলতোভাবে মাসাজ করুন।
৩। অনেক পরিমাণ পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন।
৪। অবশ্যই মুখ ধোয়ার পর টোনার ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
বাজেটের মধ্যে লাইলাক ব্রাইটেনিং ফেসওয়াশ ড্রাই স্কিনের জন্য আরেকটি ভালো মানের ফেসওয়াশ। এর প্রাকৃতিক উপাদান ত্বকের গভীরে পৌঁছে পর্যাপ্ত ময়েশ্চার যোগান দেয় এবং ত্বককে ভেতর থেকে করে তোলে উজ্জ্বল ও মোলায়েম।
উপাদান- গ্রিন টি, এলোভেরা
উপকারিতা-
১। এই ফেসওয়াশটি গ্রিন টি-এর প্রাকৃতিক গুণাগুণে ভরপুর। এতে রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না।
২। এলোভেরা ত্বকে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা সরবরাহ করে এবং স্কিনকে হাইড্রেটেড রাখে।
৩। এই ফেসওয়াশ ত্বককে সানবার্ন থেকে রক্ষা করে।
৪। ত্বকের ইনফ্ল্যামেশন কমায়।
৫। ত্বকের ইমিউন সিস্টেম বজায় রাখে।
৬। এটি এলকোহল এবং প্যারাবেন ফ্রি।
ক্যাটাফিল জেন্টল ফোমিং ক্লিনজার ফেসওয়াশটি যারা ফোম ক্লিনজার পছন্দ করেন তাদের জন্য বেস্ট। যদিও এটি অন্যান্য ফেসওয়াশের তুলনায় কিছুটা দামি, কিন্তু এক টিউবেই আপনি অনেক দিন চালিয়ে নিতে পারবেন। কাজেই যারা একটু দামি ব্র্যান্ড পছন্দ করেন, ক্যাটাফিল ফোমিং ফেসওয়াশ তাদের জন্য একটি ওয়াও প্রোডাক্ট।
উপকারিতা-
১। ত্বকে প্রয়োজনীয় ময়েশ্চার যোগান দেয় এবং নরম ও কোমল করে তোলে।
২। ত্বকে শুষ্কভাব একেবারেই থাকে না।
৩। ত্বককে হাইড্রেটেড রাখে দিনভর।
৪। এটি ব্যবহারে ত্বকে কোনো রকম জ্বালাপোড়া বা ইরিটেশন হয় না।
৫। এটি একটি প্যারাবেন ফ্রি ফেসওয়াশ।
সিম্পল কাইন্ড টু স্কিন ময়েশ্চারাইজিং ফেসিয়াল ওয়াশের গুণাগুণ যতই বলা হবে, তা কম হবে। এই ফেসওয়াশটি যেমন বাজেট ফ্রেন্ডলি, তেমন এক টিউবেই অনেক দিন ধরে ব্যবহার করা যায়। তাছাড়া ড্রাই স্কিনের ফেসওয়াশ হিসেবে এর জুড়ি নেই।
উপাদান- ভিটামিন বি৫, ভিটামিন ই
উপকারিতা-
১। এই ফেসওয়াশের নতুন ভিটামিন রিচ ফর্মুলা ত্বকের প্রতি এক্সট্রা কোমলতা বজায় রেখে পরিস্কার করে। ফলে ত্বক পরিস্কার হয় আবার থাকে নরম, কোমল ও তুলতুলে।
২। এর ফোমিং জেল ক্রিম ত্বকের গভীরে পৌঁছে পুষ্টি যোগায় এবং ত্বককে শুষ্কতার হাত থেকে রক্ষা করে।
৩। এটি মাত্র ১ সপ্তাহের ব্যবহারে ত্বকে ৪০% পর্যন্ত ময়েশ্চার লেভেল বুস্ট করে।
৪। এটি ১০০% সোপ ফ্রি।
তৈলাক্ত ত্বকের মত শুষ্ক ত্বকে দ্রুত তেল-ময়লা আটকে যায় না সত্যি তবে নিয়মিত ত্বক পরিস্কার না করলে ত্বকে ব্রণ হয় ও ফাটল দেখা দেয়। তাই শুষ্ক ত্বক হলেও নিয়মিত ত্বক পরিস্কার করতে হবে। যেহেতু সকালে ঘুম থেকে উঠে স্কিন কেয়ার করতেই হয়, কাজেই সকালে ও রাতে নিয়মিত ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। বাইরে যাওয়া না হলে অবশ্য দিনে একবার ত্বক পরিস্কার করলেই চলবে।
শুষ্ক ত্বকে বলিরেখা, ব্রেকআউটসহ নানারকম সমস্যা দেখা দেয়। তবে নিয়মিত স্কিনকেয়ারে আপনার শুষ্ক ত্বকও হয়ে উঠবে উজ্জ্বল, কোমল ও মসৃণ। সেজন্য স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট বাছাই করার ক্ষেত্রে সচেতন থাকুন।